রাজনীতির পালাবদলে বদলে যায় চোরবাগান পুজো কমিটি! ১৯ জনের মৃত্যুর দায় কার! দায়িত্ব এড়াতে পারবেন পুলিশ উদ্যোক্তারা?
ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজনীতি, আর সেই রাজনীতির বলি হতে হলো কি ১৯ জন তরতাজা হিন্দু নাগরিককে। চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গা পুজো কমিটির এবার খুঁটিপুজো হয় দুবার তা কি জানেন তাহলে জেনে নিন! এই পুজোটিকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন যিনি তার নাম জয়ন্ত বন্দোপাধ্যায় তিনি ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ।! কিন্তু ওই যে বললাম ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজনীতি! চৌঠা মে পালাবদল হয়েছে! পালাবদলের প্রভাব পড়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটিতে!
সরে যেতে হয়েছে জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর জায়গায় কে এসেছে জানেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো। অর্থাৎ পুজো কমিটিকে ঘিরে রাজনীতির অংক রাজনীতির দরকষাকষি রাজনীতির ক্ষমতা দখল সবটাই চলেছে। আর তার পরিণতিতেই কি ১৯ জনের মৃত্যু?
ডিজিটাল আনন্দবাজারের খবর অনুসারে, রাজ্যে পালাবদলের পরে পুজো থেকে বিদায় নিতে হয়েছে জয়ন্তকে। ‘এলাকাবাসীর দাবি মেনে’ পুজোর কর্তৃত্ব চলে এসেছে বিজেপি নেতাদের হাতে। সেই তালিকা দীর্ঘ। মুখ্য উপদেষ্টা পদে উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপি সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ। শোনা যায়, তিনিই পুজোর প্রাণপুরুষ। চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন জোড়াসাঁকো বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক বিজয় ওঝা। আর মুখ্য পৃষ্ঠপোষক হিসেবে নাম রয়েছে দেবদীপ অধিকারীর, যিনি সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো।
তৃণমূল ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পরে রং পাল্টে পুজোর দখল ধরে রাখার একটা মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন জয়ন্ত। ৪ মে-র পরে রাতারাতি ক্লাবঘরের দেওয়ালে নরেন্দ্র মোদীর ছবি আঁকিয়েছিলেন। দুর্গামূর্তিকে আরতি করছেন প্রধানমন্ত্রী। তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। জায়গা জবরদখল করে ক্লাবঘর তৈরি হয়েছে এই অভিযোগে বুলডোজ়ার চালিয়ে ঘর ভেঙে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। এখানেই শেষ নয়। ক্ষমতা ছাড়ার আগে এক বার খুঁটিপুজো করেছিলেন জয়ন্ত। সেখানে সনাতন ধর্মের অপমান করা হয়েছে অভিযোগ করে নতুন করে খুঁটিপুজো করে নতুন কমিটি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির বর্ষীয়ান কাউন্সিলর মীনাদেবী পুরোহিত। পুজোর শিল্পীও পাল্টে দেওয়া হয়। জয়ন্ত দায়িত্ব দিয়েছিলেন সুব্রত মৃধাকে। নতুন কমিটি নিয়ে আসে সুশান্ত পালকে।
সুশান্ত পালের তৈরি অন্য ভাবনার মণ্ডপ এ বার দর্শনার্থীদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছিল। থিমের নাম ‘অরব’। ইংরেজি তর্জমায় ‘বিয়ন্ড সাউন্ড’। শব্দের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছোনোর বার্তা। সমাজমাধ্যমের ট্রেন্ডিংয়ে গত কয়েক দিনের মধ্যেই প্রথম সারিতে চলে এসেছিল চোরবাগান সর্বজনীন। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভিড় উপচে পড়ছিল পুজো মণ্ডপে। তার জেরেই সপ্তমীর বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় ঘটে গেল এত বড় বিপর্যয়।
পদপিষ্ট হয়ে প্রায় কুড়িটি প্রাণ চলে যাওয়ার পরে উদ্যোক্তাদের গাফিলতিকেই দুষছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অনেকেরই অভিযোগ, অপরিসর গলির ভিতরে পুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য যে ধরনের ব্যবস্থা থাকা উচিত তার কিছুই চোরবাগানে ছিল না। প্রশ্ন উঠছে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও। প্রথম থেকেই তাদের চালচলন ছিল ঢিলাঢালা। দুর্ঘটনার সময় উদ্যোক্তাদের কাউকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি, দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরাও অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ। বলা হচ্ছে, প্রবল বৃষ্টি নামায় বেরোনোর দরজার মুখে দর্শকেরা আটকে পড়েছিলেন। অন্য দিকে প্রবেশ পথ দিয়ে ঢোকা বন্ধ করা হয়নি। সংকীর্ণ পথে ক্রমশ ভিড় উপচে পড়ে। যাতায়াতের রাস্তাও সমতল ছিল না। বেশ কয়েকটি সিড়ি দিয়ে নেমে যেতে হচ্ছিল বাহির দ্বারে। ধাক্কাধাক্কিতে কেউ কেউ পড়ে যেতেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় বলে প্রাথমিক অনুমান।
আর কলকাতা পুলিশের ব্যর্থতা কে নতুন করে বলার কিছু নেই। পুলিশ কমিশনারের উচিত এই দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে সরে যাওয়া কারণ এই ঘটনা কলকাতায় এই প্রথম এত বড় ঘটনা ঘটেছে যা এক কথায় ইতিহাস হয়ে থাকবে কলঙ্কিত ইতিহাস। বাংলার মাটিতে দুর্গাপুজো হচ্ছে ক্ষমতায় আছে সনাতন ধর্মের নেতারা সনাতন ধর্মের মহাপুরুষরা, তারপরেও যখন এই ধরনের ঘটনা ঘটে তখন প্রশ্ন ওঠে কোথায় নিরাপত্তা মানুষের? কলকাতা পুলিশ সিপিএমের বইয়ের স্টল ভাঙতে যতটা তৎপরতা দেখিয়েছেন ঠিক ততটা তৎপরতাকে দেখাতে পেরেছেন দুর্গা পুজোতে আসা সেই সকল মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে! সুতরাং শুধু রাজনীতিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই রাজনীতির কাদা ছোড়াছুড়িতে কলকাতা পুলিশের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না এড়াতে পারেন না এই কলকাতার পুলিশ কমিশনার তার নিজের দায়িত্ব! সুতরাং এই বিপর্যয়ের দায় কার ! ১৯ জনের মৃত্যুর জন্য কে দায়িত্ব নেবে? তথ্যসূত্র ডিজিটাল আনন্দবাজার।

